শীতকালে কয়েকটি সুস্বাদু পিঠার রেসিপি ( Some delicious Pitha recipes for winter )

শীতকালে বাংলাদেশে এবং পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের মধ্যে বিভিন্ন ধরণের পিঠা খাওয়ার চল রয়েছে। নিচে কয়েকটি জনপ্রিয় শীতকালীন পিঠার নাম এবং বর্ণনা দেওয়া হল: 


১. ভাপা পিঠা: এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় পিঠার মধ্যে একটি। চালের গুঁড়ো, খেজুরের গুড় এবং নারকেল দিয়ে তৈরি হয় এবং ভাপে সেদ্ধ করা হয়। এটি সাধারণত গোল বা বাটি আকারের হয়। 

২. চিতই পিঠা: এটিও চালের গুঁড়ো দিয়ে তৈরি হয়, তবে এটি পানিতে মিশিয়ে তরল করে মাটির হাঁড়ি বা লোহার কড়াইয়ে সেঁকা হয়। এই পিঠা সাধারণত গুড় বা বিভিন্ন ধরণের ভর্তার সাথে পরিবেশন করা হয়।

৩. পুলি পিঠা: এই পিঠা বিভিন্ন ধরণের হয়, যেমন: 

নারকেল পুলি/ক্ষীর পুলি: চালের গুঁড়োর আটার ভেতরে নারকেল কোরা, গুড় বা ক্ষীর দিয়ে পুর ভরে পুলির মতো আকার দেওয়া হয় এবং তেলে ভেজে বা ভাপে সেদ্ধ করে তৈরি করা হয়।

দুধ পুলি: এটি ভাপা পুলি পিঠাকে দুধ ও খেজুরের গুড়ের মিশ্রণে ডুবিয়ে তৈরি করা হয়। 

৪. পাটিসাপটা পিঠা: এটি দেখতে কিছুটা রোল বা পাটিসাপটার মতো হয়। চালের গুঁড়ো ও ময়দার মিশ্রণে পাতলা রুটির মতো বানিয়ে তার ভেতরে নারকেলের পুর বা ক্ষীর দিয়ে রোল করা হয়। 

৫. তেল পিঠা বা পোয়া পিঠা: চালের গুঁড়ো, ময়দা, গুড় এবং সামান্য মৌরি মিশিয়ে তেলে ডুবো করে ভেজে এই ফোলা ফোলা পিঠা তৈরি হয়।

৬. নকশি পিঠা: এটি দেখতে খুবই সুন্দর হয়। চালের গুঁড়োর কাই দিয়ে বিভিন্ন নকশা করে তেলে ভেজে বা সেঁকে তৈরি করা হয়। এটি তৈরিতে বেশ সময় ও ধৈর্য লাগে।

৭. মুগের পুলি পিঠা: মুগ ডাল সেদ্ধ করে চালের গুঁড়োর সাথে মিশিয়ে মণ্ড তৈরি করা হয় এবং তার ভেতরে নারকেল বা ক্ষীরের পুর দিয়ে পুলি বানিয়ে তেলে ভাজা হয়।

এছাড়াও আরও অনেক ধরণের পিঠা রয়েছে, যেমন: লবঙ্গ লতিকা, ফুলঝুরি পিঠা, চষি পিঠা, সেমাই পিঠা ইত্যাদি। শীতের সকালে বা সন্ধ্যায় গরম গরম এই পিঠাগুলো খাওয়ার মজাই আলাদা।

 

 ভাপা পিঠার একটি সহজ রেসিপি নিচে দেওয়া হলো:

উপকরণ:

চালের গুঁড়া: ২ কাপ (শুকনো বা ভেজা - তবে ভেজা হলে ভালো) 

নারকেল কোরা: ১ কাপ 

খেজুরের গুড়: আধা কাপ (বা স্বাদমতো) 

লবণ: পরিমাণমতো (প্রায় ১/৪ চা চামচ) 

গরম জল: পরিমাণমতো (চালের গুঁড়া মাখার জন্য) 

প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম:

ভাপা পিঠা তৈরির হাঁড়ি বা সসপ্যান

ছিদ্রযুক্ত ঢাকনা বা বাটি

ছোট বাটি বা পিঠার ছাঁচ

পাতলা পরিষ্কার কাপড় বা মসলিন কাপড় [1] 

প্রস্তুত প্রণালী:


চালের গুঁড়া প্রস্তুত: একটি বড় পাত্রে চালের গুঁড়া ও লবণ ভালো করে মিশিয়ে নিন। অল্প অল্প করে গরম জল ছিটিয়ে দিয়ে হাত দিয়ে মেখে ঝুরঝুরে করে নিন। খেয়াল রাখবেন যেন দলা পাকিয়ে না যায়, আবার একদম শুকনোও না থাকে। চালের গুঁড়া ভেজা বালির মতো ঝুরঝুরে হবে [1]।

চালা বা ছাঁকা: একটি চালুনি দিয়ে মেখে রাখা চালের গুঁড়া চেলে নিন, এতে পিঠা নরম হবে এবং দলা থাকবে না ।

পিঠা তৈরি: ছোট বাটিতে প্রথমে সামান্য চালের গুঁড়া দিন। তার উপর পরিমাণমতো কোরা নারকেল ও গুড় দিন। সবশেষে আরও কিছুটা চালের গুঁড়া দিয়ে নারকেল ও গুড় ঢেকে দিন। হালকাভাবে চেপে বাটিটি ভর্তি করুন, বেশি জোরে চাপবেন না [1]।

ভাপানো: ভাপা পিঠার হাঁড়িতে জল গরম করতে দিন। জল ফুটে উঠলে বাটির মুখটি পাতলা কাপড়ে ঢেকে ফুটন্ত হাঁড়ির ছিদ্রযুক্ত ঢাকনার উপর উল্টো করে বসিয়ে দিন। সাবধানে বাটিটি তুলে নিন, চালের মিশ্রণটি কাপড়ের উপর থাকবে ।

সেদ্ধ করা: একটি ছিদ্রযুক্ত ঢাকনা দিয়ে পিঠাটি ঢেকে দিন। মাঝারি আঁচে ৫ থেকে ৮ মিনিট ভাপিয়ে নিন। পিঠা সেদ্ধ হলে নামিয়ে নিন ।

পরিবেশন: গরম গরম পরিবেশন করুন মজাদার ভাপা পিঠা। 

এই রেসিপি অনুসরণ করে খুব সহজেই বাড়িতে নরম ও সুস্বাদু ভাপা পিঠা তৈরি করতে পারবেন।




চিতই পিঠা তৈরির একটি সহজ রেসিপি নিচে দেওয়া হলো:

উপকরণ:

চালের গুঁড়া (ভিজা বা শুকনো): ২ কাপ 

গরম জল: ২ কাপ (চালের ধরণের ওপর নির্ভর করতে পারে) 

লবণ: পরিমাণমতো 

প্রস্তুত প্রণালী:


ব্যাটার তৈরি: একটি পাত্রে চালের গুঁড়া এবং লবণ ভালো করে মিশিয়ে নিন। অল্প অল্প করে গরম জল মেশাতে থাকুন এবং একটি ঘন, মসৃণ ব্যাটার তৈরি করুন। খেয়াল রাখবেন যেন ব্যাটারে কোনো দলা না থাকে। ব্যাটারের ঘনত্ব খুব বেশি ঘন বা একদম পাতলা হবে না; ঠিক যেন দোসার ব্যাটারের মতো হয় 

বিশ্রাম: ব্যাটারটি তৈরি করার পর অন্তত ২০-৩০ মিনিট ঢেকে রাখুন। এতে পিঠা নরম ও ফুলকো হবে ।

পিঠা তৈরি: মাঝারি আঁচে একটি মাটির খোলা বা লোহার কড়াই গরম করুন। গরম হলে সামান্য তেল ব্রাশ করতে পারেন, তবে সাধারণত প্রয়োজন হয় না।

শেঁকা: ১টি চামচ দিয়ে পরিমাণমতো ব্যাটার গরম খোলায় দিন এবং দ্রুত ঢেকে দিন। পিঠা হতে ২-৩ মিনিট সময় লাগতে পারে 

পরিবেশন: ঢাকনা তোলার পর পিঠার চারপাশ হালকা বাদামী হয়ে এলে এবং পিঠার মাঝে বুদবুদ দেখা দিলে বুঝবেন পিঠা তৈরি। সাবধানে পিঠাটি তুলে নিন। 

গরম গরম এই চিতই পিঠা খেজুরের গুড়, মাংসের ঝোল, বা বিভিন্ন ভর্তার সাথে পরিবেশন করুন।



পুলি পিঠা রেসিপি


** উপকরণ **

** চালের গুঁড়ো: ** ২ কাপ

** জল: ** ১ থেকে ১.৫ কাপ

** নারকেল কোরা: ** ১ কাপ

** খেজুর গুড়: ** ০.৫ কাপ (অথবা স্বাদ অনুযায়ী)

** নুন: ** ১ চিমটি

** তেল/ঘি: ** পিঠা ভাজার জন্য (যদি ভাজা পিঠা করেন)


** দুধ: ** ১ লিটার (যদি দুধ পুলি করেন)

** এলাচ ও দারুচিনি: ** কয়েকটা (ঐচ্ছিক, দুধ পুলির জন্য) 

** পদ্ধতি: **

**১. পুর তৈরি: **

একটি কড়াইতে নারকেল কোরা এবং খেজুর গুড় একসাথে মিশিয়ে নিন  |

মাঝারি আঁচে মিশ্রণটি ৫-১০ মিনিট নাড়ুন যতক্ষণ না এটি আঠালো হয়ে যায় এবং পুর তৈরি হয় |

ঠাণ্ডা হতে দিন। 

**২. খামির তৈরি: **

একটি পাত্রে জল গরম করুন, নুন দিন। জল ফুটে উঠলে চালের গুঁড়ো দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন এবং আঁচ বন্ধ করে দিন 

ঠাণ্ডা হলে হাত দিয়ে মেখে মসৃণ খামির তৈরি করুন | 

**৩. পুলি পিঠা তৈরি: **

খামির থেকে ছোট ছোট লেচি কেটে হাতের তালুতে চ্যাপ্টা করে নিন  |

এর মাঝখানে নারকেলের পুর ভরে দিন।

লেচিগুলো মুড়ে অর্ধচন্দ্রাকার বা আপনার পছন্দের আকার দিন এবং মুখগুলো ভালো করে চেপে বন্ধ করুন যাতে পুর বেরিয়ে না আসে | 

**৪. রান্না: **

আপনি দুইভাবে পিঠা রান্না করতে পারেন:

ভাজা পুলি: তেল বা ঘি গরম করে পিঠাগুলো সোনালী হওয়া পর্যন্ত ভাজুন  |

দুধ পুলি: দুধ গরম করুন, এলাচ ও দারুচিনি দিন (যদি ব্যবহার করেন)। ফুটে উঠলে পিঠাগুলো দুধে ছেড়ে দিন এবং মাঝারি আঁচে ১০-১৫ মিনিট সেদ্ধ করুন যতক্ষণ না পিঠা নরম হয় এবং দুধ ঘন হয়  



পাটিসাপটা পিঠা একটি জনপ্রিয় বাঙালি মিষ্টি খাবার, যা বিশেষ করে পৌষ সংক্রান্তি বা শীতকালে তৈরি করা হয়। নিচে খিরসা বা নারকেল পুর দিয়ে পাটিসাপটা পিঠা তৈরির একটি সহজ রেসিপি দেওয়া হলো:

প্রয়োজনীয় উপকরণ:

ব্যাটারের জন্য:

চালের গুঁড়ো: ১ কাপ

ময়দা: ১/২ কাপ

সুজি: ১/৪ কাপ

গুঁড়ো দুধ: ২ টেবিল চামচ (ঐচ্ছিক)

চিনি বা খেজুরের গুড়: স্বাদমতো (প্রায় ৪-৫ টেবিল চামচ)


লবণ: এক চিমটি

দুধ বা জল: পরিমাণমতো (ব্যাটার পাতলা করার জন্য)

পুরের (ক্ষীরসা) জন্য:

দুধ: ১ লিটার (ঘন করার জন্য)

গুঁড়ো দুধ: ১ কাপ

খেজুরের গুড় বা চিনি: পরিমাণমতো (প্রায় ১৫০ গ্রাম)

এলাচ গুঁড়ো: ১ চা চামচ

ঘি: ২ চা চামচ

নারকেল কোরা: ১/২ কাপ (ঐচ্ছিক)

প্রস্তুত প্রণালী:

১. পুর তৈরি:

একটি প্যানে দুধ গরম করে ক্রমাগত নাড়ুন যতক্ষণ না তা ঘন হয়ে অর্ধেক হয়ে যায়।

এলাচ গুঁড়ো এবং খেজুরের গুড় বা চিনি যোগ করুন।

ঘন হয়ে এলে গুঁড়ো দুধ এবং নারকেল কোরা (যদি ব্যবহার করেন) মিশিয়ে আরও কিছুক্ষণ রান্না করুন যতক্ষণ না মিশ্রণটি আঠালো হয়ে আসে।

পুর ঠান্ডা করার জন্য একপাশে রেখে দিন।

২. ব্যাটার তৈরি:

একটি বড় পাত্রে চালের গুঁড়ো, ময়দা, সুজি, চিনি/গুড়, গুঁড়ো দুধ এবং লবণ একসাথে মেশান।

অল্প অল্প করে দুধ বা জল মিশিয়ে একটি মসৃণ এবং পাতলা ব্যাটার তৈরি করুন। ব্যাটারটি খুব ঘন বা খুব পাতলা করা যাবে না।

ব্যাটারটি ২০-৩০ মিনিট ঢেকে রাখুন যাতে সুজি ও চালের গুঁড়ো ভালোভাবে ভিজে নরম হয়।

৩. পাটিসাপটা তৈরি:

একটি নন-স্টিক প্যান বা তাওয়া মাঝারি আঁচে গরম করুন।

সামান্য ঘি বা তেল ব্রাশ করে নিন।

এক হাতা ব্যাটার প্যানে ঢেলে প্যানটি ঘুরিয়ে একটি পাতলা গোলাকার রুটির মতো ছড়িয়ে দিন।

ব্যাটারের উপরের দিকটা শুকিয়ে এলে একপাশে খানিকটা পুর লম্বা করে রাখুন।

একটি খুন্তির সাহায্যে আস্তে আস্তে পাটিসাপটা রোল করে নিন।

সবগুলো পিঠা একইভাবে তৈরি করে নিন।

গরম বা ঠান্ডা, দুই ভাবেই সুস্বাদু এই পাটিসাপটা পিঠা পরিবেশন করুন!



তেল পিঠা বা পোয়া পিঠা বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় মিষ্টি খাবার। এটি তৈরি করা বেশ সহজ এবং কিছু সাধারণ উপাদান দিয়েই ঘরে তৈরি করা যায়। 

উপকরণ এবং নির্দেশাবলী নিচে দেওয়া হলো:

প্রয়োজনীয় উপকরণ 

চালের গুঁড়া: ২ কাপ

ময়দা বা আটা: আধা কাপ (পিঠা নরম ও ফুলকো করতে সাহায্য করে)


খেজুরের গুড় বা চিনি: ১ কাপ (স্বাদমতো)

লবণ: পরিমাণমতো (এক চিমটি)

পানি: পরিমাণমতো (সামান্য গরম)

তেল: ডুবো তেলে ভাজার জন্য (সয়াবিন তেল বা সরিষার তেল)

কোরানো নারকেল: ১/২ কাপ (ঐচ্ছিক) 

তৈরির পদ্ধতি 

গোলা তৈরি: একটি বড় পাত্রে চালের গুঁড়া, ময়দা, গুড় (বা চিনি), লবণ এবং কোরানো নারকেল (যদি ব্যবহার করেন) একসঙ্গে ভালো করে মেশান।

পানি যোগ: মিশ্রণে অল্প অল্প করে হালকা গরম পানি যোগ করুন এবং হাত দিয়ে ভালো করে মাখিয়ে একটি মসৃণ ও ঘন গোলা তৈরি করুন। গোলাটি খুব বেশি পাতলা বা খুব বেশি ঘন হওয়া উচিত নয়。

বিশ্রাম: গোলা তৈরি হলে পাত্রটি ঢেকে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা রেখে দিন। এতে পিঠা নরম হবে এবং ভালোভাবে ফুলবে।

তেল গরম: একটি গভীর প্যান বা কড়াইয়ে ডুবো তেলে ভাজার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল গরম করুন। তেল ভালোভাবে গরম হলে আঁচ মাঝারি করুন।

পিঠা ভাজা: একটি গোল চামচ বা হাত দিয়ে সামান্য গোলা নিয়ে গরম তেলে ছেড়ে দিন। পিঠা নিজে থেকেই ফুলে তেলের ওপর উঠে আসবে।

উল্টে ভাজা: পিঠা সোনালী বাদামী এবং মচমচে না হওয়া পর্যন্ত দুই পাশ ভালোভাবে ভেজে নিন।

পরিবেশন: ভাজা হয়ে গেলে পিঠাগুলো তেল থেকে তুলে একটি কিচেন টিস্যুর উপর রাখুন যাতে অতিরিক্ত তেল শুষে নেয়। 

গরম গরম সুস্বাদু তেলের পিঠা পরিবেশন করুন বিকেলের নাস্তায় বা শীতের সকালে।



নকশি পিঠা তৈরির একটি সাধারণ রেসিপি নিচে দেওয়া হলো:

উপকরণ:

চালের গুঁড়া: ২ কাপ 

পানি: ২ কাপ 

লবণ: পরিমাণমতো 

গুড় বা চিনি: ১ কাপ (সিরা তৈরির জন্য) 


তেল: ডুবো তেলে ভাজার জন্য 

খেজুর কাঁটা, টুথপিক বা ছুরি: নকশা করার জন্য 

প্রণালী:

১. একটি পাত্রে পানি ও লবণ দিয়ে ফুটিয়ে নিন। পানি ফুটে উঠলে চালের গুঁড়া দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে ঢেকে রাখুন এবং চুলা বন্ধ করে দিন। ৫-১০ মিনিট পর চুলা থেকে নামিয়ে হালকা ঠান্ডা করে মথে একটি নরম খামির তৈরি করুন ।

২. খামির থেকে ছোট ছোট লেচি কেটে হাতের তালুতে গোল করে চ্যাপ্টা করে পিঠার আকৃতি দিন ।

৩. এবার একটি খেজুর কাঁটা বা টুথপিক দিয়ে পিঠার গায়ে আপনার পছন্দমতো নকশা করুন। খেয়াল রাখবেন নকশা যেন খুব গভীর না হয়।

৪. কড়াইয়ে তেল গরম করে মাঝারি আঁচে পিঠাগুলো সোনালী হওয়া পর্যন্ত ভেজে তুলুন 。

৫. অন্য একটি পাত্রে গুড় বা চিনি সামান্য পানি দিয়ে জ্বাল দিয়ে ঘন সিরা তৈরি করুন ।

৬. ভাজা পিঠাগুলো হালকা গরম সিরায় কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রেখে তুলে নিন ।

ঠান্ডা হলে পরিবেশন করুন মজাদার নকশি পিঠা!



মুগের পুলি পিঠা তৈরির একটি সহজ রেসিপি নিচে দেওয়া হলো:

উপকরণ:

পুর বা ফিলিংয়ের জন্য:

মুগ ডাল: ১/২ কাপ

নারকেল কোরানো: ১ কাপ

গুড় (খেজুর বা আখের): পরিমাণমতো (মিষ্টি অনুযায়ী)


এলাচ ও দারুচিনি: ২টি করে

লবণ: এক চিমটি

খামির বা পিঠার আবরণের জন্য:

চালের গুঁড়ো: ১.৫ কাপ

জল: ১.৫ কাপ

লবণ: এক চিমটি

সাদা তেল: ১ চা চামচ

ভাজার জন্য:

তেল: পরিমাণমতো 

প্রস্তুত প্রণালী:

১. পুর তৈরি:

মুগ ডাল প্রথমে শুকনো খোলায় হালকা ভেজে নিন যতক্ষণ না সুন্দর গন্ধ বের হয়। তারপর ভালো করে ধুয়ে সামান্য জল দিয়ে সেদ্ধ করে জল ঝরিয়ে নিন ।

একটি কড়াইতে কোরানো নারকেল, গুড়, সেদ্ধ ডাল এবং এলাচ ও দারুচিনি দিয়ে মাঝারি আঁচে রান্না করুন ।

মিশ্রণটি আঠালো হয়ে ঘন হয়ে এলে নামিয়ে ঠান্ডা করে নিন। ঠান্ডা হলে এটি দিয়ে ছোট ছোট গোল বা লম্বাটে আকার গড়ে নিন। 

২. খামির তৈরি:

একটি পাত্রে জল গরম করুন, তাতে লবণ ও তেল দিন ।

জল ফুটে উঠলে চালের গুঁড়ো দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে ঢেকে রাখুন এবং আঁচ একদম কমিয়ে দিন।

৫-৭ মিনিট পর নামিয়ে নিন এবং হালকা ঠান্ডা হলে হাত দিয়ে ভালো করে মেখে একটি মসৃণ মণ্ড তৈরি করুন । 

৩. পিঠা তৈরি:

মণ্ড থেকে ছোট ছোট লেচি কেটে নিন। প্রতিটি লেচি হাতের তালুতে গোল করে চ্যাপ্টা করে বা ছোট লুচির মতো বেলে নিন।

এর মাঝখানে নারকেলের পুর দিয়ে মুখটা ভালো করে বন্ধ করে দিন, যাতে ভাজার সময় পুর বেরিয়ে না আসে। আপনি চাইলে পুলি পিঠার ছাঁচও ব্যবহার করতে পারেন । 

৪. ভাজা:

একটি কড়াইতে তেল গরম করুন। তেল মাঝারি গরম হলে পিঠাগুলো ছেড়ে দিন ।

মাঝারি আঁচে পিঠাগুলো সোনালী ও মচমচে করে ভেজে তুলুন। 

গরম গরম মুগের পুলি পিঠা পরিবেশন করুন!


ফুলঝুরি পিঠা (Rosette Cookie) একটি জনপ্রিয় এবং ঐতিহ্যবাহী মচমচে পিঠা। এই পিঠা তৈরির জন্য একটি বিশেষ ফুল বা ফুলের মতো নকশা করা ছাঁচ (mould) প্রয়োজন হয়। নিচে এর একটি সহজ রেসিপি দেওয়া হলো: 

প্রয়োজনীয় উপকরণ 

চালের গুঁড়া: ১ কাপ

ময়দা: ১/৪ কাপ

ডিম: ১টি (বড় আকারের, রুম টেম্পারেচারে রাখা)


চিনি: ১/৪ কাপ

লবণ: এক চিমটি

হালকা গরম জল/দুধ: ১/২ কাপ বা প্রয়োজনমতো

তেল: ডুবো তেলে ভাজার জন্য (যেমন: সর্ষের তেল বা ভেজিটেবল অয়েল)

ফুলঝুরি পিঠার ছাঁচ: ১টি 

প্রস্তুত প্রণালী

১. ব্যাটার তৈরি: একটি পাত্রে ডিম, চিনি এবং লবণ একসাথে ভালো করে ফেটিয়ে নিন যতক্ষণ না চিনি গলে যায়। এবার চালের গুঁড়া ও ময়দা চেলে নিন। ডিমের মিশ্রণে অল্প অল্প করে হালকা গরম জল বা দুধ মেশান এবং ভালো করে মেশাতে থাকুন। মিশ্রণটি যেন খুব ঘন বা খুব পাতলা না হয়, একটি মসৃণ, মাঝারি ঘনত্বের ব্যাটার তৈরি করুন। 

২. বিশ্রাম: ব্যাটারটি তৈরি হয়ে গেলে, এটিকে প্রায় ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা ঢেকে রেখে দিন, যাতে উপকরণগুলো ভালোভাবে মিশে যায়। 

৩. তেল গরম করা ও ছাঁচ তৈরি: একটি গভীর পাত্রে (কড়াই বা প্যান) তেল গরম করুন। তেল মাঝারি আঁচে গরম হয়ে এলে, ফুলঝুরি পিঠার ছাঁচটি তেলের মধ্যে ১-২ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন যাতে ছাঁচটি গরম হয়। 

৪. পিঠা ভাজা:

* গরম ছাঁচটি তেল থেকে তুলে অতিরিক্ত তেল ঝরিয়ে নিন।

* এবার ছাঁচটি সাবধানে ব্যাটারের মধ্যে ডুবান। লক্ষ্য রাখবেন যেন ব্যাটার ছাঁচের অর্ধেকের একটু বেশি ডোবে, কিন্তু একেবারে ছাঁচের উপর পর্যন্ত না ওঠে।

* সাথে সাথেই ছাঁচটি গরম তেলে ডুবিয়ে দিন।

* ১০-১৫ সেকেন্ডের মধ্যে পিঠাটি ছাঁচ থেকে আলগা হয়ে যাবে। একটি কাঁটাচামচ বা কাঠি দিয়ে আলতো করে পিঠাটি ছাঁচ থেকে আলাদা করে তেলে ভাজতে দিন।

* পিঠাটি হালকা সোনালী বাদামী এবং মচমচে করে ভেজে তেল থেকে তুলে নিন। 

৫. পরিবেশন: কিচেন টিস্যুর উপর ভাজা পিঠা রাখুন যাতে অতিরিক্ত তেল শুষে নেয়। পিঠা সম্পূর্ণ ঠান্ডা হলে একটি বায়ুরোধী পাত্রে সংরক্ষণ করুন। এটি ঠান্ডা বা রুম টেম্পারেচারে পরিবেশন করুন। 

এই পদ্ধতিতে তৈরি ফুলঝুরি পিঠা অনেকদিন পর্যন্ত মচমচে থাকে। 


সেমাই পিঠার একটি সহজ রেসিপি নিচে দেওয়া হলো:

উপকরণ:

সেমাই (Vermicelli): ১ কাপ 

দুধ: ২ কাপ [1]

চিনি: প্রয়োজনমতো (স্বাদ অনুযায়ী) 

নারকেল কোরা: ১/২ কাপ (ঐচ্ছিক)


এলাচ ও দারুচিনি: ২টি করে 

তেজপাতা: ১টি (ঐচ্ছিক)

ঘি বা তেল: ১ টেবিল চামচ 

কিসমিস ও বাদাম কুচি: সাজানোর জন্য (ঐচ্ছিক)

প্রণালী:

প্রথমে একটি প্যানে সামান্য ঘি বা তেল গরম করে তাতে এলাচ, দারুচিনি ও তেজপাতা হালকা ভেজে নিন।

এবার সেমাই দিয়ে মাঝারি আঁচে সোনালী হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। 

ভাজা সেমাইয়ের মধ্যে দুধ দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন এবং ফুটতে দিন। 

দুধ ফুটে উঠলে চিনি ও নারকেল কোরা (যদি ব্যবহার করেন) যোগ করুন।

আঁচ কমিয়ে সেমাই নরম হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন এবং ঘন হয়ে এলে চুলা থেকে নামিয়ে নিন। 

গরম বা ঠান্ডা অবস্থায় কিসমিস ও বাদাম কুচি দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন মজাদার সেমাই পিঠা (বা সেমাই পায়েস)।

এই রেসিপিটি মূলত সেমাই পায়েসের মতোই, যা বাংলাদেশে ঐতিহ্যবাহী সেমাই পিঠা হিসেবেও পরিচিত।







Comments