Cricket ( ক্রিকেট )এর সমস্ত ইতিহাস ও ঐতিহ্য
ক্রিকেট খেলার একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য রয়েছে, যার শিকড় ১৬শ শতাব্দীর শেষের দিকে ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে প্রোথিত। এটি মূলত শিশুদের খেলা হিসেবে শুরু হলেও পরবর্তীতে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে এবং ১৮শ শতাব্দীতে ইংল্যান্ডের জাতীয় খেলা হিসেবে জনপ্রিয়তা লাভ করে।
ইতিহাস
উৎপত্তি ও প্রাথমিক বিকাশ: ক্রিকেটের উৎপত্তি স্যাক্সন বা নরম্যান যুগে ওয়েল্ড অঞ্চলে (কেন্ট এবং সাসেক্সের একটি ঘন অরণ্য) বলে মনে করা হয়। ১৫৯৭ সালের ১৭ই জানুয়ারী (সোমবার) তারিখে ক্রিকেটের প্রথম সংরক্ষিত লিখিত তারিখ পাওয়া যায়।
নিয়ম কানুনের প্রবর্তন: ১৭৪৪ সালে প্রথম ক্রিকেটের আইন বা "লজ অফ ক্রিকেট" তৈরি হয়, যা আধুনিক ক্রিকেটের ভিত্তি স্থাপন করে। ১৭৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব (MCC) (এমসিসি) এই আইনগুলির সংরক্ষক হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং সময়ের সাথে সাথে এতে পরিবর্তন ও পরিবর্ধন আনে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচনা: ১৮৪৪ সাল থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ খেলা শুরু হলেও, ১৮৭৭ সালে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিকে প্রথম আনুষ্ঠানিক টেস্ট ক্রিকেট ম্যাচের স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
ফর্ম্যাটগুলির বিবর্তন: খেলার বিবর্তনের সাথে সাথে বিভিন্ন ফর্ম্যাট চালু হয়। অনির্দিষ্ট দিনের টেস্ট ক্রিকেটের পাশাপাশি পরবর্তীতে একদিনের আন্তর্জাতিক (ODI) এবং একুশ শতকে টোয়েন্টি২০ (T20) ফর্ম্যাট জনপ্রিয়তা লাভ করে।
ঐতিহ্য
খেলার চেতনা ও ভদ্রলোকের খেলা: ক্রিকেটকে প্রায়শই "ভদ্রলোকের খেলা" (Gentleman's Game) বলা হয়, যা এর ঐতিহ্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি সততা, শৃঙ্খলা এবং প্রতিপক্ষের প্রতি শ্রদ্ধার উপর জোর দেয়।
সাদা পোশাক: টেস্ট ক্রিকেটে ঐতিহ্যগতভাবে খেলোয়াড়দের সাদা পোশাক পরার রীতি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য বহন করে আসছে। যদিও রঙিন পোশাক ও সীমিত ওভারের খেলা প্রচলিত হয়েছে, সাদা পোশাক টেস্টের মর্যাদাকে সমুন্নত রাখে।
লর্ডস এবং এমসিসি: লন্ডনের লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডকে "ক্রিকেটের মক্কা" হিসেবে গণ্য করা হয়। এমসিসি (MCC) এখানেই অবস্থিত এবং এখনও খেলার আইন প্রণয়ন ও সংশোধনের দায়িত্ব পালন করে।
দীর্ঘ বিরতি: টেস্ট ক্রিকেটে মধ্যাহ্নভোজ (Lunch) এবং চায়ের বিরতি (Tea) একটি ঐতিহ্য, যা খেলার ধীরগতির এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রকৃতির পরিচায়ক।
ডব্লিউ জি গ্রেস: ডব্লিউ জি গ্রেসকে "ক্রিকেটের জনক" হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যিনি এই খেলার ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের একজন।
ফুটবলের ঠিক পরেই ক্রিকেট বিশ্বের দ্বিতীয় জনপ্রিয় দর্শকদের খেলা হিসেবে পরিচিত এবং এটি বিশ্বব্যাপী, বিশেষ করে কমনওয়েলথ দেশগুলোতে, ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে আছে।



Comments
Post a Comment