কানাডার সম্পর্কে সমস্ত অদ্ভুত তথ্য এবং খুঁটিনাটি

 অদ্ভুত আইন ও নিয়মাবলী

কানাডার কিছু স্থানীয় এবং পুরোনো আইন বেশ অদ্ভুতুড়ে:


দুর্গন্ধযুক্ত অবস্থায় জনসমক্ষে থাকা বারণ: কানাডায় এমন আইন রয়েছে যার বলে, যদি কেউ জনসমক্ষে মারাত্মক দুর্গন্ধ ছড়ায়, তবে তাকে জরিমানা বা এমনকি জেলে পর্যন্ত যেতে হতে পারে। এটি মূলত জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে তৈরি আইন।

অন্টারিওতে গাছ চড়া নিষিদ্ধ! অন্টারিও-র ওশাওয়া (Oshawa) শহরে গাছ চড়া আইনত নিষিদ্ধ।

সাসকোয়াচ (Bigfoot) হত্যা অবৈধ: কানাডিয়ান আইন অনুযায়ী, সাসকোয়াচ বা বিগফুটকে হত্যা করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রাণীটিকে আইনগতভাবে সুরক্ষিত করা হয়েছে।

আলবার্টায় ইঁদুর পোষা মানা: আলবার্টা (Alberta) প্রদেশে পোষা ইঁদুর রাখা আইনত দণ্ডনীয়, কারণ তারা প্রদেশটিকে ইঁদুর-মুক্ত রাখতে চায়। এটি বিশ্বের হাতেগোনা কয়েকটি ইঁদুর-মুক্ত অঞ্চলের একটি।

হ্যালifax-এ ট্যাক্সি ড্রাইভারদের ড্রেস কোড: নোভা স্কটিয়ার হ্যালিফ্যাক্সে ট্যাক্সি চালকদের টি-শার্ট পরা নিষিদ্ধ। তাদের একটি নির্দিষ্ট ড্রেস কোড মেনে চলতে হয়।

ভৌগোলিক অদ্ভুতুড়ে বিষয়

কানাডার বিশাল ভূখণ্ডে এমন কিছু ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা বেশ আশ্চর্যের:

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি হ্রদ: কানাডায় বিশ্বের অন্য সব দেশের মিলিত হ্রদের চেয়েও বেশি হ্রদ রয়েছে, প্রায় ২০ লক্ষেরও বেশি।

চাঁদের চেয়েও বেশি দীর্ঘ উপকূলরেখা: কানাডার উপকূলরেখা বিশ্বের দীর্ঘতম (প্রায় ২,৪৩,৯৭৭ কিমি) এবং এটি এতই দীর্ঘ যে প্রতিদিন ১০ কিলোমিটার করে হাঁটলেও পুরোটা ঘুরতে ৩৩ বছর লেগে যাবে। এর দৈর্ঘ্য চাঁদের পরিধির চেয়েও বেশি।

আইল্যান্ড-ইন-এ-লেক-অন-এ-আইল্যান্ড...: কানাডায় একটি হ্রদ রয়েছে যার মধ্যে একটি দ্বীপ আছে, সেই দ্বীপের মধ্যে আবার একটি হ্রদ, এবং সেই হ্রদের মধ্যে আবার একটি ছোট দ্বীপ রয়েছে - এমন অদ্ভুত ভৌগোলিক গঠন দেখা যায়।

পৃথিবীর সবচেয়ে পুরোনো পাথর: পৃথিবীর সবচেয়ে পুরোনো কিছু পাথর কানাডার কুইবেক (Quebec) প্রদেশের হাডসন উপসাগরের পূর্ব তীরে পাওয়া গেছে, যেগুলোর বয়স প্রায় ৪.২৮ বিলিয়ন বছর।

নিজস্ব মরুভূমি: কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়াতে ওকানাগান ডেজার্ট (Okanagan Desert) নামে একটি প্রকৃত মরুভূমি রয়েছে, যেখানে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা ৪০°C-এর উপরেও উঠতে পারে।

সংস্কৃতি এবং খাদ্যাভ্যাস

কানাডিয়ানদের কিছু অভ্যাস এবং ঐতিহ্য বেশ মজার:

Kraft Dinner (ম্যাক অ্যান্ড চিজ)-এর প্রতি আসক্তি: কানাডিয়ানরা বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের মানুষের চেয়ে বেশি Kraft Dinner (ম্যাক অ্যান্ড চিজ) খায়। তারা এটিকে শুধু 'ম্যাক অ্যান্ড চিজ' না বলে প্রায়শই 'কেডি' (KD) বলে থাকে।

হাওয়াইয়ান পিজ্জার উদ্ভাবক: অদ্ভুত শোনালেও, আনারস দেওয়া 'হাওয়াইয়ান পিজ্জা'র উদ্ভাবক কিন্তু কোনো হাওয়াইয়ান নন, বরং তিনি একজন কানাডিয়ান নাগরিক।

দুধ ব্যাগে বিক্রি হয়: অন্টারিও, কুইবেক এবং মেরিটাইম প্রদেশে দুধ সাধারণত কাগজের কার্টন বা বোতলের পরিবর্তে প্লাস্টিকের ব্যাগে বিক্রি করা হয়, যা দেখে অনেক পর্যটক অবাক হন।

"সরি" বলার প্রবণতা: কানাডিয়ানরা তাদের ভদ্রতার জন্য বিখ্যাত। তারা এতটাই "সরি" বা দুঃখিত বলে যে অনেক সময় নিজেদের দোষ না থাকলেও প্রথমেই "সরি" বলে দেয়। এই আচরণটি অনেক বিদেশীর কাছে অদ্ভুত মনে হতে পারে।

পজিটিভ টিকেট: কানাডার পুলিশ কখনও কখনও ভালো কাজের জন্য নাগরিকদের "পজিটিভ টিকেট" দেয়, যেমন কেউ রাস্তায় আবর্জনা কুড়ালে বা হেলমেট পরলে।

ইতিহাস এবং অন্যান্য তথ্য

নামের উৎস: "কানাডা" নামটি স্থানীয় আদিবাসী ভাষা থেকে এসেছে। সেন্ট লরেন্স ইরোোকোইয়ান (St. Lawrence Iroquoian) শব্দ "কানাতা" (kanata) থেকে এর উদ্ভব, যার অর্থ "গ্রাম" বা "বসতি"।

সান্তা ক্লজ কানাডিয়ান নাগরিক: কানাডার তৎকালীন অভিবাসন মন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছিলেন যে সান্তা ক্লজ একজন কানাডিয়ান নাগরিক। আপনি চাইলে সান্তার ঠিকানায় চিঠিও পাঠাতে পারেন: Santa Claus, North Pole, H0H 0H0, Canada. মজার ব্যাপার হলো, সেখানে স্বেচ্ছাসেবকরা প্রতিটি চিঠির উত্তর দেন।

বাস্কেটবল কানাডাতে উদ্ভাবিত: বাস্কেটবল খেলাটি একজন কানাডিয়ান শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক জেমস নাইস্মিথ (James Naismith) দ্বারা উদ্ভাবিত হয়েছিল।

এই বিষয়গুলি কানাডার সম্পর্কে প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে দেশটির এক অদ্ভুত ও মজার দিক তুলে ধরে।

Comments