ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সম্পর্কে সব অদ্ভুত তথ্য এবং খুঁটিনাটি
ব্রিটিশ পার্লামেন্ট তার দীর্ঘ ইতিহাস এবং প্রথাগত আইন-কানুন ও রীতিনীতির জন্য পরিচিত। এখানে কিছু অদ্ভুত তথ্য এবং খুঁটিনাটি বিষয় দেওয়া হলো:
রাজার প্রবেশাধিকার নেই: ১৬৪২ সালে রাজা প্রথম চার্লস সশস্ত্র রক্ষীদের নিয়ে হাউস অফ কমন্সে প্রবেশ করে এর কয়েকজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি ব্যর্থ হন। সেই ঘটনার পর থেকে কোনো রাজা বা রানি আর হাউস অফ কমন্সে প্রবেশ করেননি। তাই, প্রতি বছর সংসদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে (State Opening), রানি বা রাজা হাউস অফ লর্ডসে বসেই "রাজার বক্তৃতা" (King's Speech) দেন এবং ব্ল্যাক রডকে (Black Rod) কমন্স সদস্যদের ডেকে আনার জন্য পাঠান।
স্পিকারকে টেনে নিয়ে যাওয়া: যখন হাউস অফ কমন্সের একজন নতুন স্পিকার নির্বাচিত হন, তখন অন্য এমপিরা (সংসদ সদস্যরা) আক্ষরিক অর্থেই তাকে চেয়ারের দিকে টেনে নিয়ে যান। এই ঐতিহ্যটি সেই সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয় যখন স্পিকারের কাজ ছিল রাজার কাছে সংসদের বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং খারাপ বার্তা দিলে তার প্রাণহানির ঝুঁকি থাকত। তাই স্পিকাররা এই পদ গ্রহণ করতে চাইতেন না।
গোল্ডফিশ বাটি থেকে আইন নির্বাচন: প্রতিটি এমপির নতুন আইনের ধারণা নিয়ে আলোচনা করার সময় থাকে না। তাই, বেশিরভাগ বছর, প্রস্তাবগুলি একটি ব্যাগ বা টুপি থেকে লটারি করে বেছে নেওয়া হয়। তবে ২০১৬ সালে, প্রস্তাবগুলি একটি গোল্ডফিশ বাটি থেকে "মাছ ধরা" হয়েছিল! অবশ্য তাতে কোনো জল বা গোল্ডফিশ ছিল না।
সব এমপিদের বসার জায়গা নেই: হাউস অফ কমন্সে ৬৫০ জন নির্বাচিত এমপি আছেন, কিন্তু চেম্বারে মাত্র ৪২৭টি আসন রয়েছে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক বা ঘোষণার সময় বাকি এমপিদের দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।
'দ্য আদার প্লেস' (The other place): হাউস অফ কমন্সের বিতর্কের সময় হাউস অফ লর্ডসকে সরাসরি উল্লেখ করার অনুমতি নেই। ঐতিহাসিককালে দুই কক্ষের মধ্যে তিক্ত সম্পর্ক থাকায় এই নিয়ম তৈরি হয়। তাই লর্ডসকে "দ্য আদার প্লেস" বা "অন্য জায়গা" হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
পশুদের প্রবেশ নিষেধ: পার্লামেন্ট ভবন চত্বরে গাইড ডগ বাদে অন্য কোনো প্রাণীর প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যদিও ইঁদুরদের অবাধ বিচরণ রয়েছে বলে গুজব আছে।
হাতে লেখা আইন: নতুন আইনগুলি কাগজে নয়, বরং ভেলাম (vellum) বা ছাগল ও বাছুরের চামড়ার তৈরি বিশেষ কাগজে লেখা হয়, যা ৫০০ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এই ঐতিহ্য বজায় রাখতে বছরে প্রায় ৮০,০০০ পাউন্ড খরচ হয়।
মূর্তি অপহরণ প্রথা: রাজার বক্তৃতার সময়, একজন এমপিকে রয়্যাল বার্জার (Royal Barges) হিসেবে বাকিংহাম প্যালেসে জিম্মি করে রাখা হয়। এটি একটি ঐতিহাসিক প্রথা যা নিশ্চিত করে যে রাজার সংসদ পরিদর্শনকালে তার কোনো ক্ষতি হবে না, কারণ এমপি তার দর কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেন।
হাউস অফ কমন্সে সবুজ ও হাউস অফ লর্ডসে লাল: আপনি বসার আসনের রঙ দেখেই বুঝতে পারবেন কোন কক্ষে আছেন। হাউস অফ কমন্সে আসনগুলি সবুজ রঙের এবং হাউস অফ লর্ডসে লাল রঙের হয়।
স্যুট অফ আর্মার (বর্ম) পরা নিষিদ্ধ: পার্লামেন্টে বর্ম পরে প্রবেশ করা নিষিদ্ধ।
বিগ বেন আসলে একটি ঘণ্টা: "বিগ বেন" নামটি আসলে বিখ্যাত ঘড়ি টাওয়ারের নয়, বরং এর ভেতরে থাকা তেরো টনেরও বেশি ওজনের বিশাল ঘণ্টার নাম।



Comments
Post a Comment