মিশর সম্পর্কে সব অদ্ভুত তথ্য এবং খুঁটিনাটি
প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতা সম্পর্কে কিছু অদ্ভুত তথ্য এবং খুঁটিনাটি নিচে দেওয়া হলো:
বিচিত্র বিশ্বাস ও প্রথা
বিড়ালের প্রতি ভক্তি: প্রাচীন মিশরীয়রা বিড়ালকে পবিত্র প্রাণী মনে করত এবং বিশ্বাস করত যে বিড়াল পরিবারে সৌভাগ্য নিয়ে আসে। যখন কোনো পোষা বিড়াল মারা যেত, শোকের চিহ্ন হিসেবে পরিবারের সবাই তাদের ভ্রু কামিয়ে ফেলত।
মমি তৈরির দীর্ঘ প্রক্রিয়া: মমিফিকেশন বা মমি করার প্রক্রিয়াটি খুবই ব্যয়বহুল ছিল এবং এতে প্রায় ৭০ দিন সময় লাগত। মৃতদেহকে পরবর্তী জীবনে অক্ষত রাখার বিশ্বাসের কারণে এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হতো।
পরবর্তী জীবনের প্রস্তুতি: মিশরীয়রা পরবর্তী জীবনকে খুব গুরুত্ব দিত। তারা বিশ্বাস করত মৃত্যুর পর আত্মা নতুন জগতে যাত্রা করবে। তাই মৃতদেহের সাথে খাবার, পানীয়, এমনকি উশাবতি (Ushabtis) নামের মানব মূর্তি দেওয়া হতো, যারা পরবর্তী জীবনে মৃত ব্যক্তির সেবক হিসেবে কাজ করবে।
ফারাওদের অদ্ভুত আচার: উর্বরতা এবং নীলনদের পুষ্টির জন্য ফারাওরা একটি বার্ষিক আচারে অংশ নিতেন, যেখানে তারা নীলনদে হস্তমৈথুন করতেন বলে জানা যায়।
শিশুদের পোশাক: প্রাচীন মিশরে ১০ বছর বয়স পর্যন্ত সব শিশু, সে যে সামাজিক শ্রেণিরই হোক না কেন, কোনো পোশাক পরত না। প্রাপ্তবয়স্করা সাধারণত খালি পায়ে থাকত, তবে প্রয়োজনে চপ্পল বা চামড়ার তৈরি স্যান্ডেল পরত।
শ্রমিকদের ধর্মঘট: ইতিহাসে প্রথম নথিবদ্ধ শ্রমিক ধর্মঘট প্রাচীন মিশরেই হয়েছিল। ফারাও তৃতীয় রামেসিসের শাসনামলে যখন শ্রমিকদের রেশন সময়মতো দেওয়া হচ্ছিল না, তখন তারা কাজ বন্ধ করে দেয়।
স্বাস্থ্য ও প্রসাধন
মেকআপের ব্যবহার: পুরুষ এবং নারী উভয়ই মেকআপ ব্যবহার করত। চোখের মেকআপ, বিশেষ করে 'কোহল' (Kohl), শুধুমাত্র সৌন্দর্যের জন্য নয়, বরং সূর্য ও দেবতাদের অশুভ দৃষ্টি থেকে রক্ষা করার জন্য ব্যবহার করা হতো।
ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি: মিশরীয়রা পরিচ্ছন্নতাকে খুব বেশি গুরুত্ব দিত। তারা শরীর থেকে সব লোম কামিয়ে ফেলত এবং পরচুলা ব্যবহার করত।
টুথপেস্টের উদ্ভাবন: প্রাচীন মিশরীয়রা টুথব্রাশ এবং টুথপেস্ট আবিষ্কার করেছিল। তাদের টুথপেস্ট তৈরি হতো পোড়া শিং, পুদিনা, শুকনো আইরিস ফুল এবং গোলমরিচ গুঁড়ো করে।
ছাঁচযুক্ত রুটি দিয়ে চিকিৎসা: তারা ছাঁচযুক্ত (mouldy) রুটিকে ওষুধের মতো ব্যবহার করত। এই রুটির ছাঁচে থাকা প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক উপাদান ক্ষত সারাতে সাহায্য করত, যা আধুনিক পেনিসিলিনের ধারণার পূর্বসূরি।
অন্যান্য তথ্য
পিরামিড নির্মাণ: গিজার পিরামিডগুলো দাসদের দ্বারা নির্মিত হয়নি। আধুনিক প্রমাণ অনুযায়ী, এগুলো বেতনভুক্ত মিশরীয় শ্রমিকদের দ্বারা তৈরি হয়েছিল, যারা তাদের কাজের জন্য অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল ছিল এবং তাদের থাকার জন্য আবাসন ও খাবার সরবরাহ করা হতো।
ক্লিওপেট্রার পরিচয়: মিশরের শেষ ফারাও ক্লিওপেট্রা আসলে ছিলেন গ্রিক ম্যাসিডোনীয় বংশোদ্ভূত, মিশরীয় নন।
গর্ভধারণ পরীক্ষা: প্রাচীন মিশরীয়রা গর্ভাবস্থায় শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণের একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেছিল: গর্ভবতী মহিলা গম এবং বার্লির বীজে প্রস্রাব করতেন। যদি গম দ্রুত বাড়ত তবে মেয়ে এবং বার্লি দ্রুত বাড়লে ছেলে হবে বলে তারা মনে করত।
প্রথম শান্তিসুত্র: ইতিহাসে প্রথম নথিভুক্ত শান্তি চুক্তি মিশর এবং হিট্টাইট সাম্রাজ্যের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল।



Comments
Post a Comment